বাণিজ্য

মহাকাশে এলন মাস্কের এত স্যাটেলাইট কেন?

অনলাইন ডেস্ক:পৃথিবীর মাটিতে তো বটেই, মহাকাশেও রাজত্ব এই কোটিপতির। বলছি টেসলা ও স্পেস এক্সের প্রতিষ্ঠাতা এলন মাস্কের কথা। মহাকাশে যতগুলো সক্রিয় স্যাটেলাইট আছে, এর মধ্যে মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্সেরই আছে এক তৃতীয়াংশ। মহাকাশে ঝাঁক বেঁধেছে স্পেস এক্সের স্যাটেলাইট। এলন মাস্ক বলেন, ৩৪০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত তার স্যাটেলাইটের সারি। তৈরি হচ্ছে নক্ষত্রপুঞ্জ, যেন জোতির্বিজ্ঞানীদের রাতের আকাশে কাজ করতে সুবিধা হয়।

মহাকাশে স্টারলিংকের  ৮ শতাধিক স্যাটেলাইট আছে। স্টারলিংকের দ্রুতগতির ইন্টারনেটও মাসে ৯৯ ডলার দিয়ে ব্যবহার করছেন গ্রাহকরা। এসব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে দূর-দূরান্তের গ্রাহকরা ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছেন। গত সপ্তাহে স্পেস এক্সের আরও একটি মহাকাশযান পৃথিবী ছেড়ে যায়। এ মহাকাশযানে ৬০ টিরও বেশি ইন্টারনেট বিমিং স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছে। স্পেস এক্স এখন মহাকাশে মোট সক্রিয়া স্যাটেলাইটের এক তৃতীয়াংশের স্বত্বাধিকারী।
স্পেস এক্স জানায়, গ্রাহকদের কম খরচে সারাবিশ্বের প্রতিটি কোনায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট সার্ভিস দেবে তার স্টারলিঙ্ক।কোম্পানিটির এখন ১০ হাজার গ্রাহক আছে। এটা প্রমাণ করে যে, স্টারলিংক কথা রেখেছে। কিন্তু অন্যদিকে ফাইবার অপটিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভারিজোনের গ্রাহক সংখ্যা ৬০ লাখের বেশি। এলন মাস্ক জানান, স্টারলিংককে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার কাজ তার।
তিনি জানান, গত বছরও স্টারলিংকের আইপিও নিয়ে কোনো আশাই ছিল না তার।এবছর থেকে স্টারলিংকের ভালোই আয় হচ্ছে। এখন পর্যন্ত স্টারলিংক মহাকাশ থেকে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক।তবে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, এত স্যাটেলাইটের জন্য মহাকাশে আলোর দূষণ হচ্ছে। কিন্তু মাস্ক জানান, স্টারলিংক হতাশ করবে না। ব্যবহারকারী বছর বছর বাড়বে।
স্টারলিংক হলো স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সুবিধা দেয়ার জন্য স্পেস এক্স’এর নির্মাণাধীন একটি কৃত্রিম স্যাটেলাইট ইন্টারনেট তারকামণ্ডল।এই তারকামণ্ডলে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে হাজার হাজার ছোট কৃত্রিম উপগ্রহ থাকবে, যা ভূমির ট্রান্সসিভারের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবে।
স্যাটেলাইট বলতে আমরা সাধারণত জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইটকে বুঝি। এ ধরনের স্যাটেলাইটগুলো পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ হাজার ৮০০ কিলোমিটার ওপরে স্থির থেকে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। বর্তমানে এসব জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইট ব্যবহার করেই অনেক কোম্পানি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা প্রদান করছে। তবে এগুলোর অনেক সীমাবদ্ধতা আছে।
অন্যদিকে, লো-অরবিট স্যাটেলাইট হলো এমন একধরনের স্যাটেলাইট, যেগুলো জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইটের মতো অত ওপরে না থেকে পৃথিবী পৃষ্ঠের অনেকটা কাছাকাছি থাকে এবং এই স্যাটেলাইটগুলো একটা জায়গায় স্থির না থেকে অনবরত দ্রুতগতিতে স্থান পরিবর্তন করে। স্টারলিংক বা এর মতো প্রজেক্টগুলোর জন্য এই লো-অরবিট স্যাটেলাইটই ব্যবহার করা হচ্ছে। লো-অরবিট স্যাটেলাইট ব্যবহারের কারণে জিও-স্টেশনারি স্যাটেলাইটের সমস্ত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠে একে ভবিষ্যতের ব্রডব্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
এখনো পৃথিবীর প্রায় অর্ধেকের বেশি মানুষ ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত। অপটিক্যাল ফাইবার কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে সহজলভ্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা কঠিন, সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল একটি কাজ। আর তাই স্টারলিংকের মতো প্রজেক্টগুলো বাস্তুবায়ন করা হচ্ছে গোটা পৃথিবীব্যাপী ইন্টারনেট সেবা প্রদান করতে। যার মাধ্যমে নিউইয়র্কে বসবাস করা একজন মানুষ আর দুর্গম গ্রামে বাস করা একজন মানুষ দুজনই সমান ইন্টারনেট সুবিধা পাবে।
আপনার মন্তব্য লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
%d bloggers like this: